শেরপুরে ৭টি নৃগোষ্ঠীর বাস

আদিবাসীরা তাদের স্বীকৃিত চায়

নৃগোষ্ঠী
সর্বমোট পঠিত : 107 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

আদিবাসী কালচারাল একাডেমি না থাকায় আমাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ভাষা রক্ষায় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাসহ নিজস্ব ভাষার শিক্ষক নিয়োগ এবং এ অঞ্চলে একটি আদিবাসী কালচারাল একাডেমি স্থাপন করা জরুরি।

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘ ১৯৯৪ সাল থেকে ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালন করে আসছে এ দিবসটি।

মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় অধ্যুষিত শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অধিবাসীরা খুব স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করছে।

সীমান্তবর্তী এ জেলায় গারো, কোচ, হাজং, বর্মন, বানাই, ডালু ও হদিসহ ৭টি নৃগোষ্ঠীর বাস। 

শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষদের হালচাল নিয়ে আদিবাসী নেত্রী ক্লোডিয়া নকরেক কেয়া বলেন, আমরা "আদিবাসী" হিসেবে স্বীকৃতি এবং ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর পরিচয় থেকে মুক্তি চাই। কারণ আমরা আদিবাসীর মর্যাদা না পাওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
এছাড়াও আমাদের পূর্বপূরষরা শতবছর ধরে ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা এ পাহাড়ে বাস করে আসলেও আমাদের ভাঙাচোরা ঘরবাড়িগুলো মেরামত করতে দিচ্ছে না বন বিভাগ। যে কারণে মেঘ বৃষ্টিতে অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটে আদিবাসীদের। মাঝেমধ্যেই পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ঘরবাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়। রেকর্ডকৃত জমিতেও আবাদ ফসল করতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে আদিবাসী কালচারাল একাডেমি না থাকায় আমাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ভাষা রক্ষায় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাসহ নিজস্ব ভাষার শিক্ষক নিয়োগ এবং এ অঞ্চলে একটি আদিবাসী কালচারাল একাডেমি স্থাপন করা জরুরি।

এ নেত্রী আরও বলেন, মহান জাতীয় সংসদে ৫শতাংশ আসন আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে, আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রাণালায় গঠন করে একজন আদিবাসীকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে হবে। সংরক্ষিত মহিলা আসনে আদিবাসী নারীদের মনোনয়নের সুযোগ দিতে হবে এবং আইএলও এর কনভেনশন নং ১০৭ নীতিমালা বাস্তবায়নসহ পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসীদের বনবিভাগের করা মামলা হতে দ্রুত মুক্তি ও নিষ্পত্তি দিতে হবে।

সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের ফেলো সুমন্ত বর্মণ বলেন, শেরপুর জেলায় গারো, হাজং, হদি, বর্মণ ,কোচ ও ডালু সম্প্রদায় বসবাস করলেও ইতোমধ্যে বানাই ও মারগান সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে এই নৃগোষ্ঠীদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। কিন্তু এদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ নেই। এই বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় এ সীমান্ত জেলায় দ্রুত একটি কালচারাল একাডেমি স্থাপন করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই।

নালিতাবাড়ী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লুইস জানান, পাহাড়ে গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ ও হদিসহ সাত জাতি গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছে। তিন উপজেলা মিলিয়ে ওইসব সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।

মন্তব্য

আরও দেখুন

জামালপুর লাইভ টিভি