রেমিটেন্সের আরেক বড় খাত ইমাম, মুয়াজ্জিন

মোট দেখেছে : 139
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

এনায়েত হোসেনঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের হাফেজ-আলেমরা। আন্তর্জাতিক কোরআন অ্যাওয়ার্ডে কিছুদিন পরপরই বাংলাদেশের হাফেজরা পৃথিবীর শতাধিক দেশকে পেছনে ফেলে বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে এনে এ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানসম্পন্ন ইমাম ও খতিব পেতে দক্ষ জনশক্তির জন্য আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। অনারব হয়েও কাতারের আমিরের প্রাসাদের খতিব হিসেবে কর্মরত আছেন একজন বাংলাদেশি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার হাজার মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে বাংলাদেশি খতিব ও ইমামের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও আমিরাতের ৭০ শতাংশ মসজিদের মুয়াজ্জিনই বাংলাদেশি।পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ কাতারে কর্মরত আছেন প্রায় এক হাজার ২০০ বাংলাদেশি ইমাম, মুয়াজ্জিন। কাতারে মসজিদের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে ইসলাম। মুসলমানের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মসজিদের সংখ্যাও।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আড়াই হাজার মসজিদ রয়েছে। সেগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশি ইমামদের চাহিদা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন মসজিদে বাংলাদেশী ইমামদের চাহিদা রয়েছে।এসব ইমামদের যদি ঐসব দেশে নিয়োগ দেওয়া যায় তাহলে মাসে দেশ ভেদে দের লাখ থেকে দুই লক্ষ টাকা সম্মানী পেতে পারে।অথচ বাংলাদেশে তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয় সেটা তাদের আবাসন ভাড়া ও হয় না।আর যদি তাদের ঐসব দেশে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে মোটা অংকের সম্মানীর পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য পানি, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ মানসম্মত আবাসন একেবারেই ফ্রি।

এখনো বাংলাদেশে অনেক ইমাম এ মুয়াজ্জিন রয়েছে যারা ভাষা জ্ঞানের জন্য ঐ সব দেশে ইমাম মুয়াজ্জিন হিসেবে চাকুরি নিয়ে যেতে পারছে না।এর জন্য বাংলাদেশে সকল কাওমী মাদ্রাসা গুলো কোরআনে হাফেজ ও তাফসির ও হাদিস  পড়ানোর পর যখন একজন পূনাঙ্গ ইসলামিক স্কলার হিসেবে তৈরি হয়  এরপর তাদের ইচ্ছানুয়ায়ী তাদেরকে আরবি, ইংরেজি, ল্যাটিন, ফার্সি, হিন্দি, উর্দু, মালয় ভাষা শিখিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন দেশে  সরকারি ও বেসরকারিভাবে, ব্যক্তিগত লগিংয়ের মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিন হিসেবে তাদের যোগ্যতা প্রমান দিয়ে যদি নিয়োগের ব্যাবস্থা করানো যায় তাহলে হাফেজ, মুয়াজ্জিনগন হবেন বাংলাদেশের দক্ষ মানব সম্পদ ও রেমিটেন্স যোদ্বা এখন বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কর্মরত ইমামরা দেশের গৌরব বয়ে আনার পাশাপাশি প্রায় ১৫০( একটি গবেষনা মতে) কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

পৃথিবীর যেসব দেশে   ইমাম ও মুয়াজ্জিনের চাহিদা রয়েছে ও  এ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী সেসব দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যদি পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমঝোতা ও ভিসা প্রসেসিংয়ের জটিলতার অবসানসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধার হাত প্রসারিত করে ও সরকার বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও যেসব দেশে  ইমাম ও মুয়াজ্জিনের চাহিদা রয়েছে সেই দেশ গুলোতে বাংলাদেশে পররাষ্ট্র  দপ্তর যদি  লগিং করে তাহলে  এ খাতে দক্ষ লোকবল দেশে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে পৃথিবীবাসীর কাছে।  

লেখক, কম্পিউটার প্রকৌশলী

E-mail:anayetkhan1096@gmail.com

আরো দেখুন

সাম্প্রতিক ভিডিওগুলি