ভোলার সদর উপজেলায় স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

মোট দেখেছে : 60
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

আরিফ মাহমুদ (উপজেলা প্রতিনিধি) : ভোলার সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে নির্যাতিতার স্বামী ও তার পরিবারের উপর। নির্যাতিত গৃহবধূ ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সম্মতিতে প্রায় ১২ বছর আগে

সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়ার চর গ্রামের মৃত আনিচ মালের ছেলে আব্দুস সাত্তার এর সাথে বিয়ে হয় ভেলুমিয়ার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চরগাজী গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের মেয়ে ওই গৃহবধূর নাম লাইজু বেগম। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন কাজের কথা বলে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা দাবি করেন আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবার এবং নানা সময়ে অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ৭০ হাজার টাকা দেয় ওই নির্যাতিত গৃহবধূর পরিবার। নির্যাতিত গৃহবধূর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নানা অযুহাতে টাকার দাবিতে এলোপাতাড়ি মারধর করে। বিয়ের পর থেকে কোন না কোন বিষয়ের কথা বলেই মারধর করতো।এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তি চেয়ারম্যান মেম্বার সহ কয়েকবার ফয়সালা করে দিয়েছেন। কিছুদিন পর আবার তার কর্মস্থল (চট্টগ্রাম) এক নারীর সাথে অবহিত সম্পর্ক করে, আমি কিছু বলতে গেলে বাড়িতে কোন টাকা পয়সা পাঠাননা। এবং হুমকি দেয় সে নাকি আমাকে রাখবেনা,তালাক দিয়ে দিবে। এমতাবস্থায় শনিবার (২৪ অক্টোবর ) আনুমানিক রাত ১১টার সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে পিটিয়ে ফুলা যখম করে,সাথে তার আমার দেবর (সাত্তারের দুই ভাই) ও আমাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আমার ছেলে (১১ বছর) মাঝের ঘরে নিয়ে দরজা আটকিয়ে দেয়। আমি আর কিছুই বলতে পারিনা। পরে কোন রকমে আমার মা খবর পেয়ে আমাকে রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকার সময় ভোলা সদর হাসপাতালে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫নং বেডে ভর্তি করেন।লাইজু বেগম মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। লাইজু বেগম এর মা রাহিমা বেগম জানান বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছে,মেয়ের সুখের জন্য আমি ১ টি গরু দেই যার মূল্য ৪৫ - ৫০ হাজার টাকা এবং তিনটি ছাগল দেয়া হয় যার মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা। ৩২ শতাংশ জমি কিনে দেই তাদের নামে। তারপর ও মেয়ের সুখ হয়নি,স্বামীর নির্যাতন অব্যাহত ছিলো।শনিবারের ঘটনা আমি শুনে লোক মারফত আমার মেয়েকে নিয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই। অভিযুক্ত স্বামী আব্দুস সাত্তার এর সাথে টেলিফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এবং বলেন সামান্য কিছু সংসারে হয়েই থাকে।এ ব্যাপারে ভোলা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

আরো দেখুন

সাম্প্রতিক ভিডিওগুলি