০১ বছরের অটোপ্রমোশন চেয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশনে চিঠি পাঠালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

মোট দেখেছে : 233
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

এম এচ এইচ শাহাদাত হোসেন, অনলাইন ডেস্ক: করোনাকালীন সময়ের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা দুঃখ,দুর্দশা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে জীবন পার করছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে বেশিরভাগ রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের সফলকামী ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের পরিবার৷ এমনিতে সেজনজটের কারণে প্রায় প্রত্যেকের অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারপর করোনার জন্য আরো প্রায় এক বছর হতে চললো। এখন মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রায় প্রত্যেকে ভেঙে পড়ছে এবং অনেক মেধাবী দরিদ্র শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোনো কূল কিনারা পাচ্ছে না। চলতি সেমিস্টারের পড়া শেষ হলেও, পূর্ণ প্রস্তুতি থাকলেও পরীক্ষা ঠিক সময় হয় নি।করোনা শেষ হলে ২ সেমিস্টার পরীক্ষা খুবই দ্রুত একসাথে নিলে আমাদের ফলাফল খুবই খারাপ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলশ্রুতিতে এখন আরো অনেক সমস্যার মুখে এগুচ্ছে। আর বিশেষ করে শেষবর্ষের সেমিস্টার দীর্ঘদিন আটকে থাকার জন্য যাদের স্নাতক শেষ হচ্ছে না, তারা কোথাও চাকরির আবেদনও করতে পারছে না।তাদের মা বাবার চাকুরীর বয়স শেষের দিকে,তাদের দিকে চেয়ে আছে গোটা পরিবার।

ইন্টারমিডিয়েটের মতো এত বড় পাবলিক পরীক্ষা অটোপ্রমোশন দেওয়া হয়েছে মাত্র কয়েকমাস ক্ষতি হয়েছে বলে, কিন্তু স্নাতকদের ক্ষতি না ভাবলে দেশই ভেঙে পড়বে, কারণ দেশের প্রতিটি সেক্টরে নিকট ভবিষ্যতে তারাই হাল ধরবে। অনেকের পারিপার্শ্বিক নানা চাপে যেটুকু প্রস্তুতি ছিল, তাও সময়মতো পরীক্ষা না হওয়ার ফলে মাথায় থাকছে না। আবার অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক সংযোগ ঠিক মতো কাজ না করায় এবং সবক্ষেত্রে সহজলভ্য না হওয়ায় এতোদিনেও অনলাইন ক্লাসের আওতায় সবাইকে আনা যায় নি।অনেক শিক্ষার্থী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লেখাপড়া করছে।অনেক শিক্ষার্থী টিউশন করে যাবতীয় খরচ বহন করে।করোনার সময়ে তারা খুবই হিমশিম খাচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল যদি ভিন্ন সিলেবাসের দুটি পরীক্ষার গড় করে প্রমোশন দেয়া হয়,(৩)তিন বছরে একই বিষয়ে যারা পড়েছে বা পড়বে তাদের এক (১) বছর অটোপ্রমোশন দেয়াটা আমরা যৌক্তিক মনে করছি।এমতাআস্থায়,৩০ লাখের অধিক শিক্ষার্থীদের এমন করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য করোনা পরিস্থিতিতে অটোপ্রমোশন খুবই প্রয়োজন।কারণ করোনার মধ্যে পরীক্ষা নিলে তা খুবই ভয়াবহ হতে পারে।করোনার কারণে আমরা আমাদের দাবী নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে চাই না।

তবে বিষয়টি এভাবে ভাসমান থাকলে সরকারবিরোধী চক্র শিক্ষার্থীদের অভাব,দুর্দশা ও আবেগকে পুঁজি করে রাজপথে বিশাল আন্দোলনে রূপ দিতে পারে,বিশৃঙ্খলা করতে পারে। প্রয়োজনে কারো যদি অটোপ্রমোশনের কারণে রেজাল্ট আশানুরূপ না হয়,পরবর্তী বছরে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রাখা যেতে পারে। মহামারীর জন্য স্কুল, কলেজের মতো হতভাগা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটু ছাড় পাওয়ার আশা রাখছে৷

আরো দেখুন

সাম্প্রতিক ভিডিওগুলি