চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গণধর্ষণের শিকার যুবতী,ধর্ষণের অভিযোগে হোটেল ম্যানেজার সহ ৭ জন আটক

মোট দেখেছে : 537
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

দেবাশীষ গোলদার হৃদয়, চট্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধিঃ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক যুবতীকে গণধর্ষণ করেছে ৬ বন্ধু। গত শনিবার বিকেল থেকে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের জলসা আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় হোটেল ম্যানেজারসহ ৭ জনকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার থানায় মামলা করার সময় ধর্ষিতা ওই যুবতী অজ্ঞান হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের রাজমিস্ত্রির ছেলে নয়নের (২২) সঙ্গে একমাস পূর্বে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় মীরসরাই উপজেলা এলাকার ২২ বছরের ভুক্তভোগী ঐ যুবতীর। এর পর থেকে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়নের সাথে ওই যুবতীর নিয়মিত যোগাযোগ হতো। নয়ন গত শনিবার বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই যুবতীকে সীতাকুণ্ডে ডেকে নিয়ে আসে। পরে পৌর সদরের জলসা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে ওই যুবতীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে নয়ন কৌশলে তার ছয় বন্ধুকে হোটেলে ডেকে নিয়ে আসে এবং তারাও একের পর এক ধর্ষণে মেতে উঠে। শনিবার রাত থেকে শুরু করে রবিবার রাত পর্যন্ত পালা করে চলে ধর্ষণ। গতকাল সোমবার সকালে ওই যুবতী কৌশলে তাদের কাছ থেকে পালিয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ তৎক্ষনাৎ হোটেল জলসা ও পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ছয় ধর্ষণকারীসহ হোটেল ম্যানেজারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হল, সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল গ্রামের মো. নুর নবীর ছেলে মোহাম্মদ আলীম হোসেন (২২), গুলিয়াখালী খালিদ মেম্বারের বাড়ির মোহাম্মদ জামাল উল্লাহ মোহাম্মদ রিফাত (১৯), দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মোহাম্মদ ইমন ইসলাম (২০), একই এলাকার নেছার আহমেদের ছেলে রণি (২০), জসিম উদ্দিনের ছেলে বারেক (২২), আবুল কাসেম মিস্ত্রির ছেলে নয়ন (২২) এবং জলসা হোটেলের ম্যানেজার দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নুর উদ্দিন (৩৮)।

থানা থেকে দুইশ গজের মধ্যে জলসা আবাসিক হোটেলটির অবস্থান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানার পাশে ৫/৬টি আবাসিক হোটেল থাকলেও সেগুলোর কোন বৈধতা নেই। কোন তথ্য নেই থানাতেও।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন,ধর্ষণের শিকার যুবতীটি স্বামী পরিত্যক্তা। আমরা তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছি।শীঘ্রই ভুক্তভোগী ধর্ষিতা আইন অনুযায়ী বিচার পাবে বলে জানান তিনি।


আরো দেখুন

সাম্প্রতিক ভিডিওগুলি