দুর্ভোগের শেষ নেই বন্যার্তদের

‘কোন রকম চিড়া মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছেন বন্যার্ত রমিছেরা’

সর্বমোট পঠিত : 79 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

এদিকে যমুনা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়াগনঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে চার সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

‘৬দিন থেহে (থেকে) পানি মদে বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে খুবই কষ্টে আছি, হাঁস-মুরগিসব ভেসে গেছে। এহন পর্যন্ত কোন মেম্বার চেয়ারম্যান খোঁজখবর নেই নাই। এক বেলা খেয়ে দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয় আমাগরে’। এভাবেই  শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে এ প্রতিবেদকের কাছে কথা গুলো বলছিলেন বানভাসি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের খামারীপাড়া এলাকার আশ্রিত মৃত আব্দুল রশিদের স্ত্রী রমিছে বেওয়া।


তার কথা শেষ হতে না হতেই দুলেনী বেওয়া,রহিজ উদ্দিন,আরজিয়াসহ আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের আগে বাড়ি ছিল বেলগাছা ইউনিয়নে। যমুনা নদীতে আমাদের সব কিছু চলে গেছে। তাই এখানে গত দুই বছর থেকে নাম মাত্র ঘর ভাড়া নিয়ে কোন রকম আশ্রয় নিয়েছি খামারী পাড়ায়। ত্রাণের জন্য চিনাডুলীর চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি বলেন তোমরা তো বেলগাছার ভোটার আর বেলগাছার চেয়ারম্যানের কাছে গেলে বলে তোমরাতো চিনাডুলির বাসিন্দা ত্রাণ সামগ্রী ওই চেয়ারম্যানই দিবে। বন্যার সময় আমরা কোন সাহায্যই পাই না। বন্যা হলেই আমাগরে ন্যাইমা আহে দুঃখ কষ্ট। কোন রকম চিড়া মুড়ি খেয়েই বেঁচে আছি’।


তবে বিষয়টি অস্বীকার করে বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘বন্যার সময় কেউ যাতে না খেয়ে থাকে। সবার কাছে আমার ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। ফোন করলেই তাদের ঘরে খাবার পৌচ্ছে যাবে। আর তাছাড়া আমি না করবো কেনো তাদের কাছে তো তাদের ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে। প্রতিনিয়তই বন্যার্ত এলাকায় খোঁজখবর রাখছেন বলে দাবী করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান’।


এদিকে যমুনা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়াগনঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে চার সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ।


শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বন্যার্ত এলাকায় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বন্যায় উপজেলার বেলগাছা,কুলকান্দ,চিনাডুলী,সাবধরী,নোয়ারপাড়া ও পলবান্ধা ইউনিয়নের পানিবন্দী অন্তত আশি হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছেন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫০০জন মানুষ। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, শিশু ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।


ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, ‘আগামী তিন দিনে বন্যার্ত এলাকায় ১২ মেক্ট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলছে।’


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে জেলার তিন হাজার ছয়'শ ২৩ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়াও তিন হাজার পাঁচ'শ ৩০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, ৪৮ হেক্টর জমির সবজি এবং ৪৫ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রয়েছে জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মো, নায়েব আলী জানান, জেলার বন্যার্ত এলাকায় ৯০ মেক্ট্রিক টন চাল,১২ লাখ ৫০হাজার নগদ টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।


এস আর /জামালপুর লাইভ

মন্তব্য

আরও দেখুন

জামালপুর লাইভ টিভি