করোনায় ১৪ ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডা: অমি

করোনায় গর্ভবতী মা ও শিশুদের ঝুকি কমাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডা: অমি
সর্বমোট পঠিত : 88 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সদর উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মুনসুর মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির মা, বোনদের নিয়া এই করোনাকালীন সময়ে অনেক চিন্তায় আছিলাম। এমনিতে গ্রামের মানুষ বেশি কিছু বুজিও না আমরা। বাড়িতে আইসা অমি আপা চিকিৎসা দিলো আরো অসুধ দিলো। আমাগরে এলাকার মহিলাগরে খুব উপকার হইলো।

করোনায় সবচেয়ে বেশী ঝুকিতে গ্রামের গর্ভবতী মা ও শিশুরা। বিশেষ করে গ্রামীন মা ও শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে শহরে সেবা নিতে যাওয়া খুবই কঠিন। আর যারা শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না, সে সকল গর্ভবতী মা ও শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শারমিন রহমান অমি। ঘরে বসে সেবা পেয়ে খুশি এখানকার মানুষগুলো।

গত জুন মাসের শুরু থেকেই শেরপুর জেলার করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু হচ্ছে অনেকেই। এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় করোনা সংক্রমনটা অনেক বেশী। এরই মধ্যে কয়েক দফায় লকডাউন ও বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকেিত আছে গর্ভবতী মা ও শিশুরা। বাড়ির বাইরে যাওয়াটাই তাদের জন্য অনেক ঝুকি। এ অবস্থায় শেরপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রতিটি গ্রামের বাড়ী বাড়ী ঘুরে গর্ভবর্তী মা দের চিকিৎসা ও বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করছেন শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: শারমিন রহমান অমি। এতে খুশি গ্রামের এসব গর্ভবতী মহিলারা।

সদরের গাজীরখামার গ্রামের গর্ভবতী রহিমা বেগম বলেন, হাসপাতালো এহন করোনা রোগী বেশি। তার জন্য আমরা হাসপালে গেলে আগের মত চিকিৎসা পাই না। আপারা আমাগো বাড়ি আইসা চিকিৎসা দিয়া গেতাছে এতে আমরা অনেক খুশি।

সদরের রৌহা গ্রামের গর্ভবতী আনোয়ারা বগেম বলেন, করোনা বাড়ছে আর হাসপাতালে করোনা রোগী থাকায় হাসপাতালে যাইতে ভয় লাগে। আর এমনিতে আমরা গ্রামে থাকি। আমাদের বাড়িতে আইসা চিকিৎসা ও বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করতাছে এতে আমাদের খুব উপকার হইতাছে।  

এ সংকট কালীন সময়ে ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ পেয়ে খুশি এখানকার গ্রামবাসীরাও।

সদর উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মুনসুর মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির মা, বোনদের নিয়া এই করোনাকালীন সময়ে অনেক চিন্তায় আছিলাম। এমনিতে গ্রামের মানুষ বেশি কিছু বুজিও না আমরা। বাড়িতে আইসা অমি আপা চিকিৎসা দিলো আরো অসুধ দিলো। আমাগরে এলাকার মহিলাগরে খুব উপকার হইলো।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা: শারমিন রহমান অমি বলেন, গর্ভবতীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে কখনো নিজ গাড়ি, কখনো বা পায়ে হেটে ছুটে চলেছি। এতে বাড়িতে থেকেই সেবা পাচ্ছেন ৭ থেকে ৯ মাসের গর্ভবতী নারি ও নবজাতক শিশুরা। ফলে অনেকটা নিশ্চিন্তে রয়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হাত ধোয়ার জন্য আমার নিজের তহবিল থেকে একটি করে সাবান ও মাস্ক বিতরণ করছি। আর করোনা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করছি।

যতদিন করোনা ভাইরাস খেকে দেশ রক্ষা না হচ্ছে ততদিন সদরের ১৪ ইউনিয়নে এই চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে বলে জানালেন ডা: অমি।   

এ উদ্যোগের কারণে তাকে কেউ মানবিক ডাক্তার আবার কেউ গরিবের ডাক্তার উপাধি দিয়ে আসছেন। এতে খুশি ডা: শারমিন রহমান অমি। এসব মা ও শিশুদের সেবা দিতে পেরে তার অনেক ভালো লাগে বলে তিনি জানান।   

মন্তব্য

আরও দেখুন

জামালপুর লাইভ টিভি