l

পদ্মায় বিলীন মাদারীপুরে আরও একটি স্কুল ভবন

মোট দেখেছে : 69
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেন্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ মঙ্গলবার বিকালে বিলীন হয়ে যায় বলে প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার জানান । এর আগে পদ্মার ভাঙনে শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নে চরাঞ্চলের বাতিঘর নামে পরিচিত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়। কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়টি গত কয়েকদিন ধরে ভাঙন ঝুঁকিতে ছিল; ভাঙন প্রতিরোধে শুক্রবার বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংও করা হয়।কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে স্কুলটি রক্ষা করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


কাঁঠালবাড়ি সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুলহাস বেপারী বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ৬০০ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ হয়নি।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নাসিমা বলেন, “বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় আছি; খুবই কষ্ট লাগছে। আমার স্কুলে ২৭২ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যতে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।”

শিবচর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক মাস ধরেই আমরা আতঙ্কে ছিলাম। বিদ্যালয়টি রক্ষায় গত শুক্রবার ৬০০ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে আর রক্ষা করা গেল না।”

শিবচর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান আতাহার বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙনে এই বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হল। এর আগে বন্দরখোলায় আরও একটি স্কুল বিলীন হয়েছে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থাপনার কাছে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে।”

এদিকে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় মাদারীপুরের শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা; পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচরের পদ্মায় ৭৩ সেন্টিমিটার ও আড়িয়াল খাঁ নদে ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় নদী ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে শিবচরের ৭ ইউনিয়নে।  এছাড়া পদ্মা তীরবর্তী উপজেলার বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাতেও নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

“ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, কাজীর সূরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আড়িয়াল খাঁ তীরবর্তী সন্ন্যাসীরচর, শিরুয়াইল, নিলখী ও বহেরাতলা দক্ষিণেও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।এ পর্যন্ত নদীতে বিলীন হয়েছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরবাড়ি। এ সকল এলাকায় খোলা ২১টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ”

তবে বাকি বিভিন্ন গুরুতবপূর্ণ ভবন নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকৌশলী জানান।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যা ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাঙনের কবলে পড়া স্কুলগুলোর জন্য ‘বিকল্প ব্যবস্থা করে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

আরো দেখুন

সর্বশেষ ফটো